
হাতিয়ার কথা ডেস্ক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে হাতিয়া উপজেলা সদরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ-কে একক প্রার্থী হিসেবে সমর্থন ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক জোটের বৃহত্তর স্বার্থে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জমা দেন।
সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় হাতিয়া উপজেলা সদরে অবস্থিত ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী কার্যালয়ে। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাস্টার বোরহানুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন জামায়াত মনোনীত হাতিয়া পৌরসভা মেয়র প্রার্থী শাব্বির আহমেদ তাফসীর।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে যারা ভোটাধিকার হরণে জড়িত ছিলেন, তাদের একটি অংশ এবারও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তারা বলেন, তথাকথিত “বিনা ভোটের জনপ্রতিনিধি” ও তাদের সহযোগীরা ভোটের মাঠে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের তৎপরতা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান, বিতর্কিত বা পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের যেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া না হয়।
এলডিপির প্রার্থী আবুল হোসেন বাবুল বলেন, গত ১৭ বছর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে উৎসবমুখর ভোটের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, একটি মহল তা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তিনি ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে আবদুল হান্নান মাসউদ-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেন।
জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক বলেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে হত্যা, গুম, খুন, হামলা ও মামলার মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠ রোধ করা হয়েছে। হাতিয়াতেও মানুষের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণ করে জনপদকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছে—এ কারণেই তিনি জোটের বৃহত্তর স্বার্থে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
১০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, তাদের জোট ফ্যাসিবাদবিরোধী, আধিপত্যবাদবিরোধী ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও আধুনিক হাতিয়া গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাচিত হলে তিনি জোটের সব শরিক সংগঠন ও হাতিয়ার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করেনি এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল না—তারা যদি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসতে চায়, জোট তাদের স্বাগত জানাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা শাহ মিজানুল হক, জাতীয় যুবশক্তির উপজেলা আহ্বায়ক ইউসুফ রেজা, ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আশিক এলাহীসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় গণমাধ্যমের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাতিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক কেফায়েতুল্লাহ, সিনিয়র সাংবাদিক ইফতেখার হোসেন তুহিনসহ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে ১০ দলীয় জোটের নেতারা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। সেখানে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন এবং জোটের একক প্রার্থী হিসেবে আবদুল হান্নান মাসউদ-এর প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করেন।